ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
কোটাবিরোধী আন্দোলন : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে শ্রেণিকক্ষে নিতে চাপ প্রয়োগ শুরু

শিক্ষার্থীদের চাপে রাখতে চায় সরকার

  • আপলোড সময় : ১৩-০৭-২০২৪ ০২:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৭-২০২৪ ০২:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিক্ষার্থীদের চাপে রাখতে চায় সরকার
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে চাপে রাখতে চাইছে সরকারইতোমধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে শ্রেণিকক্ষে নিতে চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে সরকারপাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রকাশ করছেসাপ্তাহিক ছুটির পর আগামী রোববার অফিস খোলার দিনে সড়ক দখল করে আন্দোলনে নামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছেসূত্রে জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছেআন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করে সরকারও কোটাব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে ভাবছেসে ব্যাপারে সরকার প্রস্তুতিও নিচ্ছেএর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আর স্বাভাবিকভাবে দেখছে না সরকারতবে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, শুধু দাবি আদায়ের আন্দোলন হলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর গত বুধবারই আন্দোলন থেকে সরে যাওয়া উচিত ছিল; কিন্তু বৃহস্পতিবারও আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করেছেনএ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরাএজন্য যেকোনো মূল্যে আন্দোলন আর বাড়তে না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারএরইমধ্যে গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল, কোটা আন্দোলনে সে প্রেতাত্মাদের ষড়যন্ত্র অস্বীকার করতে পারব নাতিনি বলেন, জানমাল রক্ষা করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের দায়িত্বতিনি আরও বলেন, সেখানে যদি কেউ বাধাগ্রস্থ করে তাহলে সরকার আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেএ সময় তিনি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কোটা আন্দেলন নিয়ে সর্ব্বোচ্চ আদালতের আদেশ মেনে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাবেন
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলতি মাসের ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে কর্মসূচি পালন করছেনতাদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে সরকার এত দিন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেএখন সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এই আন্দোলন মোকাবিলা করার পথে হাঁটতে চাইছেগতকাল অন্তত চারজন মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেনতাদের বক্তব্যে সরকারের কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছেতবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি অব্যাহত রেখে সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি দেখাচ্ছেনস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেনতার বক্তব্য হচ্ছে, আন্দোলনকারীরা সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছেনএছাড়া জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, এমন কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেনমন্ত্রীদের বাইরে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, রাস্তায় কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবেএরই মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতার মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলন থেকে সরানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছেসরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগও তৎপর হয়েছেপ্রথমে চাপ দিয়ে রাজপথ থেকে শ্রেণিকক্ষে নেয়ার চেষ্টা চলছেআজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেও এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবেকারণ শুরুতেই সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে চায় নাতবে আগামীকাল রোববারও সড়ক দখল করে আন্দোলনে নামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করবেতবে বৃহস্পতিবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেমারমুখী না হলেও সীমিত শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা ছিলক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানায়বিকেলে আন্দোলনকারীরা যখন শাহবাগে অবস্থান করছিলেন, সে সময় কাছেই রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে ছাত্রলীগআওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই ছাত্রলীগ রাজপথে নেমেছেতবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এতদিন কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কিছুটা নমনীয় বক্তব্য দিলেও বৃহস্পতিবার কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেনদুপুরে দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো অশুভ মহল যদি দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেকোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে, এই বক্তব্যকে এখন সামনে আনা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকেরাজনৈতিক দিক থেকেও একধরনের চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটিতবে এসব কৌশল কতটা ইতিবাচক ফল দেবে, সেই আলোচনাও রয়েছে সরকার ও দলের ভেতরে
এদিকে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সীমা লঙ্ঘন (লিমিট ক্রস) করছে বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানতিনি বলেন, আদালতের যে নির্দেশনাটা এসেছিল, শিক্ষার্থীরা মনে করেছেন তাদের যে চিন্তা-ভাবনা, সেটা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছেসেজন্য তারা রাস্তায় চলে এসেছিলেনআমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশকে আমরা বলেছি, এদের ডিমান্ড যেটা আছে, সেটা আমরা শুনবোকিন্তু শোনারও একটা লিমিট বোধহয় থাকেতারা বোধহয় এগুলো ক্রস করে যাচ্ছেতিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকদিন হলো শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেনএরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি একটা নির্দেশনা দিয়েছেনতিনি স্পষ্ট বলেছেন, যে নির্দেশনা হাইকোর্ট দিয়েছেন সেটি স্থগিতযে মামলাটি চলছে সেটির রায় না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবেতাই হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটি অচল, সেটি এখন নেইতিনি আরও বলেন, তাদের দাবির প্রতি সরকার সব সময় খেয়াল রাখছেযেহেতু বিষয়টি কোর্টে আছে এজন্য কোর্টের মাধ্যমে এটি নিষ্পত্তি হবেস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যখন অপারগ হয়ে যায় তখনই অ্যাকশনটা আসেযখন কেউ অগ্নিসংযোগ করতে যায়, যখন জানমালের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়.. এককথায় অনাকাক্সিক্ষত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স